উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
শেয়ারবাজারের ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও আলোচিত বিনিয়োগকারী মো. আবুল খায়ের (হিরু) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে হঠাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত ৫৬টি কোম্পানির মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসে ৫১টি কোম্পানির কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। তবে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে আল-আমিন কেমিক্যালের লেনদেন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৯ মে পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির প্রায় ১৩ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা মোট শেয়ারের ৪ শতাংশেরও বেশি। এ সময়ে শেয়ারগুলোর দাম ৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অল্পসংখ্যক বিনিয়োগকারীর মধ্যে এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এত বড় পরিমাণ শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে কি না কিংবা নতুন কোনো কারসাজির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।আল-আমিন কেমিক্যাল ১৯৯০ সালে ব্যবসা শুরু করে এবং ২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৯ সালে কোম্পানিটিকে ওটিসি মার্কেটে স্থানান্তর করা হয়।২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সাকিব-হিরু সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ। পরবর্তীতে কোম্পানিটিকে পুনরায় মূলধারার বাজারে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুসন্ধানেও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ২৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। লোকসানের এ বড় ধরনের পরিবর্তনও বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।আল-আমিন কেমিক্যালের কোম্পানি সচিব স্বপন চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সাকিব ও হিরু গ্রুপের মালিকানা এখনও অপরিবর্তিত আছে। তাদের পক্ষে আমিনুল ইসলাম সিকদার পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।এদিকে অস্বাভাবিক শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএসইসি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএসইর মুখপাত্র শফিকুর রহমান বলেন, ওটিসি মার্কেটের একটি কোম্পানিতে কেন হঠাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সার্ভেইল্যান্স বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। কোনো বিধি-বহির্ভূত লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।