উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
Ekramul Karim , Desk Reporter ||
আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি, মেঘের গর্জন ও বজ্রপাত মানুষের মনে ভয় ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। আধুনিক বিজ্ঞান এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেও ইসলামে এটি আল্লাহর কুদরত, সতর্কবার্তা এবং ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বিদ্যুৎকে ভয় ও আশার নিদর্শন হিসেবে দেখান এবং ভারী মেঘ সৃষ্টি করেন। (সুরা আর-রুম: ২৪) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, বজ্র আল্লাহর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে। (সুরা আর-রাদ: ১৩)বজ্রপাত কেন হয়বৈজ্ঞানিকভাবে, মেঘে বৈদ্যুতিক চার্জ জমে গিয়ে হঠাৎ নির্গত হলে বজ্রপাত ঘটে। তবে ইসলামী দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর শক্তি ও মহিমার প্রকাশ।ঝড়-তুফানের সময় করণীয় দোয়ারাসুল (সা.) ঝড়ের সময় বিশেষ দোয়া পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন।দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা… (মুসলিম: ৮৯৯)অর্থ: হে আল্লাহ! আমি এই বাতাসের কল্যাণ চাই এবং এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।বজ্রের শব্দ শুনলে দোয়াউচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি।অর্থ: বজ্র ও ফেরেশতারা আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবিহ পাঠ করে।ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করণীয়হাদিসে এসেছে, ভয়াবহ কিছু দেখলে নবী (সা.) নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (বুখারি: ১০৩৪) তাই এই সময়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার, নফল নামাজ ও দান-সদকা করা উত্তম।বাস্তব নিরাপত্তা নির্দেশনাইসলামিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বাস্তব সতর্কতাও জরুরি—খোলা মাঠ, গাছ ও পানির কাছ থেকে দূরে থাকানিরাপদ ঘরে আশ্রয় নেওয়াবৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলাধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকাঅসহায়দের পাশে দাঁড়ানোঝড়-তুফানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম তাদের সাহায্য করার নির্দেশ দেয়। খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব।প্রাণীর প্রতিও দায়িত্বইসলামে প্রাণীর প্রতিও দয়া করতে বলা হয়েছে। গবাদি পশু ও পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।ঝড়-তুফান ও বজ্রপাত মুমিনের জন্য ভয় নয়, বরং শিক্ষা, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ। আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, দোয়া করা এবং সতর্কতা অবলম্বন করাই এই সময়ের মূল করণীয়।