উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
কোরবানির ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামের চামড়ার বাজারে আবারও হতাশার মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়া আড়তে এসে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হওয়ায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন।ঈদের দিন নগর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। বাসাবাড়ি, মসজিদ ও পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে তারা নগরের বিভিন্ন আড়তে নিয়ে আসেন। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার প্রতি বছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে সেই মূল্য বাস্তবায়ন হয় না। চলতি বছর ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তার প্রতিফলন নেই।চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকার আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ছোট আকারের একটি গরুর চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।অন্যদিকে, এসব চামড়া সংগ্রহ করতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়। ফলে অনেকেরই লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আরিফ বলেন, গ্রামের একটি বড় চামড়া ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু আড়তে এসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না।আরেক ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এবার তুলনামূলক কম দামে চামড়া কিনলেও লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং লোকসান হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।এদিকে কাঁচা চামড়ার আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, একটি চামড়া সংগ্রহের পর পরিষ্কার করা, লবণ দেওয়া ও কারখানায় পৌঁছে দিতে প্রায় ৪৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যে দামে চামড়া কিনেছেন, সেই দামে আড়তদারদের পক্ষে সব চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রামে এবার প্রায় ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন আড়তদার চামড়া ক্রয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।