উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রকাশ্যে নাকচ করেছে দেশ দুটি।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে সৌদি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না রিয়াদ।সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রশ্নই আসে না।অন্যদিকে পাকিস্তানও তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তিতে পাকিস্তান যুক্ত হবে না।”ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যাদের কথার ওপর এক দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না, তাদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়া সম্ভব?”তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয়।”পাকিস্তান এখনো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটির পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েলে ভ্রমণও নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, “আমরাই একমাত্র দেশ, যার পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই।”সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ইস্যুতে আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, পাকিস্তান, কাতার, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। এর পরপরই সৌদি আরব ও পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল।বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বের জনমত উপেক্ষা করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি করানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।উল্লেখ্য, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি চুক্তি। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথম এ চুক্তিতে সই করে। পরে মরক্কো ও সুদানও একই পথে হাঁটে।