সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার একটি ছবি ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ডে তাদের পাশাপাশি বসা অবস্থায় দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন জুমা।
দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রশাসন যেন তাকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ তদন্ত করে। তিনি বলেন, “আমার যদি কোনো দোষ থাকে, তাহলে আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক, জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তদন্তে কিছু পাওয়া গেলে সেটি আইন অনুযায়ী ব্যবহার করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে, তবে সত্য একদিন সামনে আসবেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নতুন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে।
জুমা বলেন, “হাদি হত্যার বিচার হলে অনেকেই বিপাকে পড়বেন—এই ভয়ে কিছু পক্ষ সক্রিয়। আমাকে বা অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে কিংবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে বিচার প্রক্রিয়া থামানো যাবে না। দেশের মানুষ বিচার চায়।”
এদিকে ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডে দেখা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও ফাতেমা তাসনিম জুমা হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে পাশাপাশি বসে আছেন। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে জুমার ছবি ভাইরাল।’
তবে ফ্যাক্টচেক প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর যাচাইয়ে দাবি করা হয়েছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফয়সাল করিম মাসুদ ও হত্যা মামলার আরেক আসামি আলমগীর হোসেনের ছবির সঙ্গে এ ছবির মিল রয়েছে।
এ ছাড়া ‘দিগন্ত টিভি’ নামে যে ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটি প্রচারিত হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসিয়াল পেজ কি না—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।








