আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা‑৮ এখন সম্পূর্ণভাবে উত্তেজনার আবরণে ঘেরা। এই আসনে দুই বিশিষ্ট প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মির্জা আব্বাস মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী:
এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক কর্মসূচি চালাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এলাকায় দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অপরাধীদের আধিপত্য আছে, যেটি তিনি জয় পেলেই প্রকাশ্যেই মোকাবিলা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে পাটওয়ারীর কর্মসূচির সময়ও নানা প্রতিবন্ধকতার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারের এক অনুষ্ঠানে তাকে ডিম এবং কাঁচা ডিম ছুঁড়ে মারে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পাটওয়ারী বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠীর দেওয়া কাজ বলে তিনি দাবি করেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন বাধা‑হামলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ফলে নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে অন্যান্য দলের পক্ষ থেকেও নিন্দা প্রদান করা হয়েছে।
মির্জা আব্বাস:
দ্বিতীয় ধাঁচের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মির্জা আব্বাস, বিএনপি Standing Committee সদস্য এবং ঢাকা‑৮ আসনের অভিজ্ঞ প্রার্থীর মতোই ব্যাপক জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বারবার বলছেন যে ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে সবাইকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবং ভোটের প্রতিটি কেন্দ্র নজরদারি করা উচিত যাতে কোন সম্পৃক্ত পক্ষের দ্বারা ভোটে প্রভাব সৃষ্টি না হয়।
আবার তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হতে যদি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেয়, তাহলে তিনি সেটিকে “অনিচ্ছাইভ বা অসাধু উদ্দেশ্য” হিসেবে বিবেচনা করবেন।
এছাড়া রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও মির্জা আব্বাস প্রশাসনিক পক্ষের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে নির্বাচনের পরিবেশ যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়ে ওঠে সে দিকে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট:
দেশব্যাপী ১৩তম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বলে ধারণা করা হচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক আয়োজন, যেখানে দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গত দুই বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধাক্কা‑প্রতিধাক্কার মধ্যে এই ভোটকে গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা‑৮ আসনের মতো কেন্দ্রে নিবার্চন প্রচারণা যত তীক্ষ্ণ হচ্ছে, ততই ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রত্যাশাও বাড়ছে। ভোট আদান‑প্রদানের দিনে কি এই অঞ্চল থেকে একটি নয়া রাজনৈতিক সুর উঠবে, সেটাই আগামী দিক নির্দেশ করবে।








