Editorial News 24

জাবেরের ‘গুলিবিদ্ধ’ পোস্ট ঘিরে বিভ্রান্তিকর সংবাদে উদ্বেগ, যা বললেন প্রেস সচিব

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। এ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করলেও মৌলিক সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত—তথ্য যাচাইয়ে বারবার ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।

প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি বলেন, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি সাধারণত সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার অর্থ বহন করে। ওই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, দুঃখজনকভাবে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র ওই ফেসবুক পোস্ট যাচাই না করেই সত্য ধরে নিয়ে শিরোনাম ও ফটোকার্ডে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত জনমনে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি জানান, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বর্তমানে প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।

সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং ক্লিকবেইটের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হয়।

অতীতের উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পরও ভুল ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সে সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে এবং সচিবালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। তার মতে, সাম্প্রতিক বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছিল।

সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের জবাবদিহির কথা সাংবাদিকরা যেমন জোরালোভাবে বলেন, তেমনি নিজেদের ক্ষেত্রেও আত্মসমালোচনার সাহস দেখানো জরুরি।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন