আগামী সপ্তাহের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। প্রায় দুই দশক তিনি লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। দেশকে স্থিতিশীল করতে আবারও জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির কার্যালয়ে বসে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’
বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাবে বলে তারা আশাবাদী। দলটি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
সব মতামত জরিপেই বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস থাকলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এই জোটে একটি জেনারেশন জেড রাজনৈতিক দলও রয়েছে, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনাকে গত বছর দমন-পীড়নের দায়ে ঢাকার একটি আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে এবং এরপরও ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ পরিস্থিতিতে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
ভারতের পরিবর্তে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারই বাংলাদেশের প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘সরকারে গেলে আমাদের প্রথম কাজ হবে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।’
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব থাকবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’
শেখ হাসিনার সন্তানরা দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং জনগণ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই তার লক্ষ্য। তবে তা হতে হবে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে যত দিন না সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে পারবে। আমরা চেষ্টা করব, তারা যেন নিরাপদভাবে নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারে।’








