ঢাকা–৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপিকে দায়ী করেছে।
ঘটনার পর ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের সম্মতিতে মির্জা আব্বাসের নির্দেশেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কায়দায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য কোথায়—এ প্রশ্ন জনগণই করবে। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি মাঠে দাঁড়াতে না পারলেও এখন সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে ঠিক করে দেবে—কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এক দলের প্রার্থীদের ওপর ডিম নিক্ষেপ হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে—এ ধরনের পরিবেশ তারা চান না। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা না নিলে নিজেদের করণীয় তারা নিজেরাই করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, কলেজে প্রবেশের সময় ছাত্রদল পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। ইট–পাটকেল, লাঠি ও কিল–ঘুষির পাশাপাশি ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি জানান। এতে তার সঙ্গে থাকা ছাত্রনেতা ও কর্মীরা আহত হন।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর আসনে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কোনো জায়গা নেই। তিনি মসজিদভিত্তিক প্রচারণাসহ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, এই হামলার বিচার তিনি সারা দেশের জনগণের ওপর ছেড়ে দিলেন। আগামী নির্বাচনে জনগণই এর জবাব দেবে। পাশাপাশি তিনি তারেক রহমানকে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং মির্জা আব্বাসকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাম উল্লেখ করে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া জানানো হয়, এ ঘটনায় ঢাকা–৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মির্জা আব্বাসের ভাগিনা ও মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিনিয়র সহ–সভাপতি আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য দাবি করেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং কলেজের শিক্ষার্থীও নন। তার নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সাজানো। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নির্বাচন করলেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো রেকর্ড নেই।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান, ঘটনার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) ইমরুল কায়েসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।








