Editorial News 24

৭ ভূমিকম্পে কাঁপছে দেশ: মাটির নিচে কী চলছে?

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

গত এক সপ্তাহে দেশে সাত দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানীর এত কাছে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প বহু বছর ধরে দেখা যায়নি। এই কম্পনের পরই ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

গত এক সপ্তাহে দেশে সাত দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানীর এত কাছে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প বহু বছর ধরে দেখা যায়নি। এই কম্পনের পরই ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এক সপ্তাহের সাত ভূমিকম্প

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ৬০০’র বেশি মানুষ আহত হন। নরসিংদীতে ৫ জন, ঢাকায় ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১ জন মারা যান। আতঙ্কে কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন, কেউ দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। কোথাও কোথাও ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

পরদিন সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আবার ৩.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রাজধানীর বাড্ডায় ৩.৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে নরসিংদীতে আবার ৪.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।

এরপর বুধবার গভীর রাতে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে ৪ মাত্রার কম্পন হয়, যা টেকনাফ শহরে অনুভূত হয়।
এক মিনিট পর রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে ৩.৪ মাত্রার আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন (আফটারশক)।

কেন বাড়ছে ভূমিকম্প?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, সাম্প্রতিক বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী অঞ্চল। এই এলাকা হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোন। সিলেট ও টেকনাফের ভূমিকম্পও এই জোনের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন, সরে যাওয়া বা ধাক্কার কারণে শিলাস্তরে শক্তি জমতে থাকে। যখন সেই শক্তি শিলার সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তখন হঠাৎ ফাটল সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প ঘটে।

গত ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে তিনি “স্মরণকালের ভয়াবহতম ভূমিকম্প” বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ১৯৫০ সালের পর থেকে নরসিংদীতে ৫.৫ মাত্রা বা তার বেশি শক্তির ১৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান ভূমিকম্পের উৎস দুটি— ডাউকি ফল্ট ও সিলেট-চট্টগ্রাম-টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ফল্ট লাইন। উভয়কেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

কী করতে হবে এখন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে— দেশে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে শক্তি সঞ্চয় বাড়ছে। তাই এখনই প্রস্তুতির বিকল্প নেই। এর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করতে হবে।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে

  • ঘরকে নিরাপদ করা
  • জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা
  • পরিবারকে নিয়ে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা— এসব বিষয় জীবন রক্ষায় সহায়ক।

জাতীয় পর্যায়ে

  • মানুষকে সচেতন করা
  • প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী গড়ে তোলা
  • নিয়মিত মহড়া আয়োজন
  • ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান— এসবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন— ভূমিকম্পের সময় বা স্থান আগে থেকে বলা সম্ভব না। তবে প্রস্তুতি নিশ্চিত করলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় উল্লেখযোগ্যভাবে।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন