চারদিকে ধূ ধূ মরুভূমি। তার মাঝখানে উটের গলায় দড়ি বেঁধে হাঁটছেন এক যুবক—চোখে আতঙ্ক, মুখে আর্তি: “আমাকে বাঁচান, আমি দেশে ফিরতে চাই, না হলে আমি মরে যাব!” ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলার এক যুবকের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দেখেই নড়েচড়ে বসেছে সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যুবককে উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
ভিডিওতে যুবক নিজেকে প্রয়াগরাজের হান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ—সৌদি আরবে তার নিয়োগকর্তা বা কফিল তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন এবং তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছেন। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। যুবকটি কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলেন,
“আমার গ্রাম এলাহাবাদে। আমি সৌদি আরবে এসেছিলাম কাজ করতে। এখন আমি দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু আমার কফিল আমার পাসপোর্ট ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, না হলে আমি মারা যাব।”
ভিডিওতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। আমি আমার মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই। দয়া করে এই ভিডিওটি যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন, যাতে এটি আপনার কাছে পৌঁছে।”
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) এক্স (Twitter)-এ পোস্ট করা ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির আইনজীবী কল্পনা শ্রীবাস্তব ভিডিওটি পুনরায় শেয়ার করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ট্যাগ করে লিখেছেন—“এই যুবকটিকে অবিলম্বে সাহায্য করা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করুন।”
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা জানিয়েছে, ওই যুবককে শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান চলছে। তবে তার নাম, অবস্থান বা কর্মস্থল সম্পর্কে ভিডিওতে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় পদক্ষেপ নিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দূতাবাস আইনজীবী কল্পনা শ্রীবাস্তবের কাছ থেকেও অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে, যাতে দ্রুত যুবকটির অবস্থান নির্ধারণ করা যায়।
একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ প্রশাসনকেও বিষয়টি তদন্ত ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। অনেকে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যুবকের এই আর্তনাদ আবারও মনে করিয়ে দিল—বিদেশে কর্মরত বহু শ্রমিক আজও নানা অনিয়ম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। তাদের কণ্ঠ যেন নিঃশব্দ না হয়, সেটিই এখন সবার প্রত্যাশা।








