ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করলে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘সব ধরনের সমর্থন’ হারাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটা কখনোই হবে না, কারণ আমি আরব দেশগুলোকে কথা দিয়েছি। তোমরা (ইসরাইল) এখন পশ্চিম তীর যুক্ত করতে পারবে না। আমাদের প্রতি আরব বিশ্বের প্রচুর সমর্থন রয়েছে। যদি ইসরাইল পশ্চিম তীর সংযুক্ত করে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সব সমর্থন হারাবে।”
মার্কিন-মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনার প্রেক্ষাপটে ১৫ অক্টোবর টাইম ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইলি পার্লামেন্ট (নেসেট) সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি বিলে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ওই ভোটে ১২০ সদস্যের নেসেটে ২৫-২৪ ভোটে বিলটি পাস হয়। আইন কার্যকর হওয়ার আগে বিলটি আরও তিন ধাপের ভোটাভুটি পেরোতে হবে।
নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের জুডিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে ইসরাইলের ‘সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিলটি আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে।
এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, “নেসেটে যে ভোট হয়েছে, সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও এটি শান্তিচুক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন কোনো সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না যা গাজা শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।”
গাজা ইস্যুতে চলমান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি সম্প্রসারণ এবং ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও গভীর হতে পারে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠবে।








