বন্দি বিনিময় কার্যক্রমের একদিনও পেরোয়নি, এরই মধ্যে আবারও গাজায় হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি সেনারা। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় এ হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় শুজাইয়া এলাকায় অবস্থান করছিল ইসরাইলি সেনারা। এসময় পাঁচ ফিলিস্তিনি ‘নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করলে’ গুলি চালায় আইডিএফ।
আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হলে তারা তা উপেক্ষা করে এবং হুমকিস্বরূপ আচরণ করে। তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।”
তবে গাজার স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই পাঁচজন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক ছিলেন, যারা যুদ্ধবিরতির পর আশ্রয়ের খোঁজে এলাকাটি দিয়ে যাচ্ছিলেন। হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে গাজার জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, “যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে চলুন এবং টহলরত সেনাদের কাছাকাছি যাবেন না।”
উল্লেখ্য, দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দি বিনিময় কার্যক্রম শুরু হয়। হামাস দুই দফায় নিজেদের দখলে থাকা ইসরাইলি বন্দিদের আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হাতে তুলে দেয়। মুক্তি পাওয়া বন্দিদের পরিবারে এখন স্বস্তি ও উল্লাসের পরিবেশ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি কারাগারে দীর্ঘদিন আটক থাকা প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়ে গাজায় ফিরেছেন। আত্মীয়স্বজনদের চোখে জল আর উল্লাসে ফেটে পড়েছে গাজার নানা প্রান্ত। তবে নতুন এই হামলার ঘটনায় আবারও ভয়ের ছায়া নেমে এসেছে উপত্যকাজুড়ে।








