Editorial News 24

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক পরিবহন শুরু হচ্ছে কাল

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক পরিবহন শুরু হচ্ছে কাল দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হচ্ছে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক পরিবহন। আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। প্রথম দিনে তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ২০০ পর্যটক দ্বীপে রওনা হবেন বলে জানিয়েছে জাহাজ মালিকদের সংগঠন। প্রতিদিন সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে। প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বেলা দেড়টার দিকে পৌঁছাবে সেন্ট মার্টিনে। পরদিন বেলা তিনটার দিকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে জাহাজগুলো। একদিকে যেতে সময় লাগবে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রথম দিনে দুই হাজার পর্যটক যাওয়ার আশা করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনটি জাহাজে ১ হাজার ২০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। পর্যটক আরও কম হলে সব জাহাজ চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। সোমবার এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজ তিনটি পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হবে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, ১০ মাস বন্ধ থাকার পর ডিসেম্বর-জানুয়ারি দুই মাসের জন্য দ্বীপ খুললেও এবার পর্যটকের সাড়া তুলনামূলক কম। দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল–মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের বেশিরভাগই খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে সরকার জানিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপ ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও জাহাজ চলাচল ও রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় নভেম্বরে কোনো পর্যটক যেতে পারেননি। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক—কিউআর ছাড়া কোনো টিকিট গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বীপের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে— রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো উচ্চ শব্দে আয়োজন বারবিকিউ পার্টি কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়াফল সংগ্রহ-বিক্রি সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়াসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সৈকতে মোটরসাইকেল বা মোটরযান চলাচল পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, নির্দেশনা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা বলেছেন, দুই হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহন করতে দেওয়া হবে না, জ jetty এলাকাগুলোতে আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থাও রয়েছে। গত বছরের পর্যটক সংখ্যা জাহাজ মালিকদের হিসাবে, গত বছরের ডিসেম্বরে ৮টি জাহাজে ৪৮ হাজার ২১৯ এবং জানুয়ারিতে ৫৬ হাজার ৭৯১ পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেন। দুই মাসে মোট পর্যটক সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৯৭৭। যদিও ৮টি জাহাজের দৈনিক ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার ২১৯ জন। তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন জানান, গত বছর জাহাজগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৮৭ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন ও ২৪১ কেজি প্লাস্টিক উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারও একই ব্যবস্থা থাকবে। পরিবেশগত গুরুত্ব ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হচ্ছে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক পরিবহন। আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। প্রথম দিনে তিনটি জাহাজে মোট ১ হাজার ২০০ পর্যটক দ্বীপে রওনা হবেন বলে জানিয়েছে জাহাজ মালিকদের সংগঠন।

প্রতিদিন সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে। প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বেলা দেড়টার দিকে পৌঁছাবে সেন্ট মার্টিনে। পরদিন বেলা তিনটার দিকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে জাহাজগুলো। একদিকে যেতে সময় লাগবে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রথম দিনে দুই হাজার পর্যটক যাওয়ার আশা করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনটি জাহাজে ১ হাজার ২০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। পর্যটক আরও কম হলে সব জাহাজ চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। সোমবার এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজ তিনটি পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হবে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, ১০ মাস বন্ধ থাকার পর ডিসেম্বর-জানুয়ারি দুই মাসের জন্য দ্বীপ খুললেও এবার পর্যটকের সাড়া তুলনামূলক কম। দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল–মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের বেশিরভাগই খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে

সরকার জানিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপ ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও জাহাজ চলাচল ও রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় নভেম্বরে কোনো পর্যটক যেতে পারেননি। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক—কিউআর ছাড়া কোনো টিকিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

দ্বীপের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ করা হয়েছে—

  • রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো
  • উচ্চ শব্দে আয়োজন
  • বারবিকিউ পার্টি
  • কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়াফল সংগ্রহ-বিক্রি
  • সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়াসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
  • সৈকতে মোটরসাইকেল বা মোটরযান চলাচল
  • পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, নির্দেশনা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা বলেছেন, দুই হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহন করতে দেওয়া হবে না, জ jetty এলাকাগুলোতে আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থাও রয়েছে।


গত বছরের পর্যটক সংখ্যা

জাহাজ মালিকদের হিসাবে, গত বছরের ডিসেম্বরে ৮টি জাহাজে ৪৮ হাজার ২১৯ এবং জানুয়ারিতে ৫৬ হাজার ৭৯১ পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেন। দুই মাসে মোট পর্যটক সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৯৭৭। যদিও ৮টি জাহাজের দৈনিক ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার ২১৯ জন।

তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন জানান, গত বছর জাহাজগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৮৭ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন ও ২৪১ কেজি প্লাস্টিক উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারও একই ব্যবস্থা থাকবে।


পরিবেশগত গুরুত্ব

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন