সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি আধুনিক, চারলেনের সড়ক, যা শহরের যানজট কমাতে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আনবে। ২০২২ সালে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ফোর লেন উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং মামলা প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ তিন বছরেও শেষ হয়নি।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট হয়ে কুমারগাঁও পর্যন্ত ১২.৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ২০২২ সালের নভেম্বরে শুরু হয়। যদিও ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, এখন প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের জন্য ৭৭ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভূমি মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় কাজ আটকে রয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় মামলা জটিলতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পের অধীনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার অংশ কুমারগাঁও বাস স্টেশন পর্যন্ত, বাদাঘাট হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪.৩ কিলোমিটার এলাকা সওজের নিজস্ব মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে কাজ শেষ হলেও, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সমস্যা প্রকল্পের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নীলগাঁও এবং বাইশটিলা বাজার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। দীর্ঘসূত্রিতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। যেসব মালবোঝাই ট্রাক সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের জন্য যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সরকারের কাছে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। ৮ নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল মামুন শাহিন আহমদ বলেন, “জমির মালিকদের দ্রুত নোটিশ দিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত, যাতে জনগণ উপকৃত হয়।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসইএল লিমিটেডের সার্ভেয়ার মো. সবুজ বেপারী জানিয়েছেন, “যেসব জায়গায় জমি অধিগ্রহণ সমস্যা নেই, সেসব এলাকায় কাজ চলছে। তবে কিছু এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কাজ আটকে গেছে।”
সওজ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, জমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, “জমি বুঝে পাওয়ার পর অতিরিক্ত ছয় মাস সময় লাগবে প্রকল্প শেষ করতে। আগামী বছরের জুনে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।”








