বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে আশ্রয়শিবিরগুলোতে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় প্রয়োজন ৯৩৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে এসেছে মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থায়ন। ফলে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পে স্থানীয় শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের ৫২ শতাংশ শিশু। প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নভেম্বরের পর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) খাদ্য সহায়তা চালু রাখতে পারবে কি না, তা অনিশ্চিত। ১২ ডলার বরাদ্দও হয়তো কমে যেতে পারে।”
ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলছেন, সহায়তা কমে গেলে তারা খাদ্য সংকটে পড়বেন এবং নানা ধরনের অশান্তি তৈরি হতে পারে। রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জোবায়ের সতর্ক করে বলেন, “যখন রোহিঙ্গারা খেতে পাবে না, তখন তারা ক্যাম্প থেকে পালাবে এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। এতে বাংলাদেশ ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।”
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরে গেছে গাজা ও ইউক্রেন সংকটের দিকে। ফলে দাতা দেশগুলোর আগ্রহও কমছে। এ অবস্থায় আগামী জাতিসংঘ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও তহবিল ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নতুন তহবিল জোগাড় না হলে বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়া ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।








