দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ ধাপে। দীর্ঘ এক দশক ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু সংস্থা রোসাটমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই প্রকল্পে চলছে পরমাণু জ্বালানি লোডের প্রস্তুতি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অপপ্রচার। তারা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বায়রা)-র অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না।
গত আগস্টে আইএইএ’র বিশেষজ্ঞ দল রূপপুর প্রকল্পে প্রি-ওসার্ট মিশন পরিচালনা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে— অগ্নি-নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা, অপারেশন তত্ত্বাবধানের মান উন্নত করা এবং কমিশনিং চলাকালীন যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের জন্য বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ। আইএইএ আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সেই অনুযায়ী সব সুপারিশ বাস্তবায়নের পরই ফুয়েল লোডিং শুরু হবে।
এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন,
“রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে সময় বেশি লাগলেও আমরা তাড়াহুড়া করব না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হবে।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০-এর বেশি নন-নিউক্লিয়ার টেস্টের মধ্যে ৯০০টিরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলো দ্রুত শেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী ধাপ শুরু করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব অভিযোগ উঠেছে— নিরাপত্তা ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হবে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বরং আন্তর্জাতিক বিধিমালা মেনেই ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে প্রকল্পটি।
পরবর্তী ধাপে আইএইএ’র ফাইনাল ওসার্ট মিশন অনুষ্ঠিত হবে। তখন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার মান নিয়ে সর্বশেষ মূল্যায়ন দেওয়া হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে তবেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে “ঝুঁকি নয়, নিরাপত্তাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”








