ইলিশের প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশি জেলেদের ২২ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও, ভারতীয় জেলেরা অবাধে বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে মা ইলিশ শিকার করছে। এতে বাংলাদেশি জেলেদের ত্যাগ অনেকটাই বিফলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের সমুদ্র ও উপকূলে একযোগে মা ইলিশ সংরক্ষণ করলে ইলিশের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে আসে, যেখানে বাংলাদেশি জেলেরা মাছ ধরেন না। কিন্তু ভারতীয় ট্রলাররা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে চলে যাচ্ছে। শত শত ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার এই অঞ্চলে বাংলাদেশি জেলেদের অনুপস্থিতিতে ইলিশ শিকারে যুক্ত হচ্ছে, যা ইলিশ সংরক্ষণের প্রচেষ্টা বিফলে ফেলছে।
বাংলাদেশি জেলেরা বলছে, “ভারতীয়রা আমাদের নিষেধাজ্ঞা মেনে না চলায় মাছ ধরে যাচ্ছে, এটি বন্ধ না করলে দেশের জন্য ক্ষতি।” ইলিশ গবেষকরা মনে করছেন, দু’দেশের উপকূলে মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, “এক অঞ্চলে জেলেরা মাছ ধরছে না বলেই মা ইলিশ নিরাপদ হচ্ছে না, অন্য অঞ্চলের জেলেরা শিকার করছে।”
মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র দফতরের সহযোগিতায় প্রজনন মৌসুমে দুই দেশে একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয় আলোচনা করা হবে। এছাড়া, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছে, যাতে বিদেশি ট্রলার অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে।
গত ২০ বছরে শুধুমাত্র বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।








