Editorial News 24

মন্ত্রিসভায় ‘চমক’ চান তারেক রহমান, লক্ষ্য ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা প্রায় নিশ্চিত বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমান এবার একটি ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন ও পুরোনো মুখের সমন্বয়ে একটি ইনক্লুসিভ ও ব্যতিক্রমধর্মী কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ছোট কিন্তু কার্যকর মন্ত্রিসভা

বর্তমানে সরকারের অধীনে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার তুলনামূলক ছোট রাখা হতে পারে—সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি নাও হতে পারে।

দলীয় হাইকমান্ড নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠনে আগ্রহী। পাশাপাশি সংসদ সদস্য নন, কিন্তু দেশ-বিদেশে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এমন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। শপথের পরই চূড়ান্ত দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানা যাবে।

সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শও নেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনই নির্দিষ্ট কিছু বলা কঠিন। তবে ভালো কিছু হবে, ইনশাআল্লাহ।”

সম্ভাব্য মুখ নিয়ে আলোচনা

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক সিনিয়র নেতা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরছে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একটি নির্দিষ্ট অংশ সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীকে মন্ত্রী করার আলোচনা চলছে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

বিশ্লেষকদের মত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় চমক থাকাটা স্বাভাবিক। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি মনে করেন, জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হলে সরকার পরিচালনা সহজ হবে।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন চোখ শপথ অনুষ্ঠানের দিকেই।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন