ব্রাজিলের ফুটবল দলে চলছে বড় রদবদল, আর সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে আছেন কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই ইতালিয়ান কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষানিরীক্ষার সময় এখনই। তার হাতে সময় খুব বেশি নেই, তাই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোই হয়ে উঠেছে ব্রাজিল দলের বাছাই প্রক্রিয়ার মঞ্চ।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে ব্রাজিল, যেখানে দেখা যাবে আনচেলত্তির নতুন পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন। টোকিওর আজিনোমোতো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে আটটি পরিবর্তন আনছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ের একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে মাত্র তিনজনের জায়গা পাকা হয়েছে নতুন একাদশে—ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেইস এবং ভিনিসিউস জুনিয়র। বাকিদের বদলে নামছেন নতুন মুখ।
আনচেলত্তির পরীক্ষামূলক দলে সম্ভাব্য একাদশ:
হুগো সৌজা; পাওলো হেনরিক, ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো, লুকাস বেরালদো, কার্লোস অগুস্তো; ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেইস, লুকাস প্যাকেতা; লুইজ হেনরিক, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
এই ম্যাচে আনচেলত্তি ৪-৩-৩ ফরমেশন ব্যবহার করতে যাচ্ছেন, যা তার আগের দুই উইন্ডোতেও দেখা গেছে। তবে এবার তিনি কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন।
- ব্রুনো গিমারেইসকে আরও সামনে এনে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।
- ভিনিসিউস জুনিয়রকে খেলানো হচ্ছে প্রায় সেন্টার ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়, যা তাকে গোলের আরও কাছে নিয়ে আসবে।
- আর ক্যাসেমিরো থাকছেন দলের অভিজ্ঞ মেরুদণ্ড হিসেবে, যিনি রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবেন।
আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত ডাকা ৪৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৩৮ জনই মাঠে সুযোগ পেয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি ব্রাজিল দলের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সংমিশ্রণ খুঁজে পেতে কোনো কিছুরই ঘাটতি রাখছেন না।
এদিকে, জোয়াও গোমেস ও জোয়েলিন্তন জাপান সফরে থাকলেও এখনো সুযোগ পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদেরও আসন্ন ম্যাচগুলোতে দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আনচেলত্তির এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো—ব্রাজিল দলে এখন নিশ্চিত জায়গা আছে কেবল তিনজনের: ক্যাসেমিরো, গিমারেইস ও ভিনিসিউস। বাকিদের জায়গা নির্ভর করছে মাঠে পারফরম্যান্সের ওপর।








