বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বাইরের নানা চাপে পড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের একাধিক পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিপিএলে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ।
ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগ, স্বচ্ছতার অজুহাতে হঠাৎ করেই আফগান ওপেনার রাহমানউল্লাহ গুরবাজের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামার ঠিক আগমুহূর্তে সাইফ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আতিক ফাহাদের একটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্ট চরম বিব্রত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির।
এর পেছনে রয়েছে গত আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন, যেখানে আগের আসরে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যদিও সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং চলতি মৌসুমে আগের মতোই মালিকানা বহাল থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা ক্যাপিটালস তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ মিঠুন, নাসির হোসেন ও রাহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে এবারের বিপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে আতিক ফাহাদ স্পষ্ট ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়রা যদি মানসিকভাবে স্থির না থাকে, তাহলে ভালো পারফরম্যান্স কীভাবে আশা করা যায়? আমরা প্রতিবছর ২–৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েও দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে বিপিএল চালিয়ে আসছি। সেই অবস্থায় যদি এভাবে মানসিক চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে টিকে থাকা কঠিন।”
তিনি আরও জানান, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিপিএল চালিয়ে যাওয়ার সাহস থাকবে না। তার ভাষায়,
“খরচ করব, ক্ষতি মেনে নেব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর তহবিল এনে লিগে বিনিয়োগ করব—আর শেষে অসম্মান নিয়ে ফিরব, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সব মিলিয়ে, বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, যা বিপিএলের জন্যও নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।








