জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুবায়েদ হোসাইন এক ভয়াবহ ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়েছেন। টিউশন করতে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার ছাত্রী বার্জিস শবনাম বর্ষার সঙ্গে, আর সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় নির্মম হত্যাকাণ্ডে।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্ষার ২৩ দিনের পরিকল্পনায় তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান জুবায়েদকে খুন করে। হত্যার সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন বর্ষা। জুবায়েদ প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাতে মন গলেনি বর্ষার।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, “বাসায় পড়াতে গিয়ে জুবায়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বর্ষার। এ সম্পর্কের কারণে বর্ষা তার আগের প্রেমিক মাহির রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে মাহিরকে ভুলতে না পেরে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন তার সঙ্গে। একপর্যায়ে মাহিরকে ফিরে পেতে বর্ষার প্ররোচনায় ২৩ দিন ধরে পরিকল্পনা করেন তারা—শেষমেশ হত্যা করা হয় জুবায়েদকে।”
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেনে। এসময় মাহির রহমান ও তার সহযোগী ফারদিন আহমেদ আইলান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের হলে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর প্রেমঘটিত এই হত্যার রহস্য।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রথমে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্ষার চাপে মাহির নিজ হাতে জুবায়েদের গলায় ছুরি চালান। হত্যার সময় বর্ষা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তার নীরবতায় শেষ হয়ে যায় এক তরুণের জীবন।
এদিকে, বর্ষার সঙ্গে জুবায়েদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না নিহত শিক্ষার্থীর বড় ভাই।
নিহত জুবায়েদ হোসাইন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।








