Editorial News 24

পাহাড়ে সোনালি ফসলের হাসি: খাগড়াছড়িতে জুম চাষে বাম্পার ফলন

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

পাহাড়ে সোনালি ফসলের হাসি: খাগড়াছড়িতে জুম চাষে বাম্পার ফলন l Editorial News 24
Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

জুমের পাকা ধানে ছেয়ে গেছে খাগড়াছড়ির পাহাড়। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকি কম থাকায় এ বছর জুম চাষে এসেছে বাম্পার ফলন। বিবর্ণ পাহাড়গুলো ভরে উঠেছে সবুজে, এখন সেখানে পেকে উঠেছে সোনালি ধান। এতে জুমিয়াদের ঘরে ঘরে নেমেছে আনন্দের বন্যা।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলো এখন দিন কাটাচ্ছেন ফসলের পরিচর্যায়। ধান ছাড়াও মরিচ, ভুট্টা, মারফা, শাকসবজি ও ঔষধি গাছের যত্নে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সবাই। দুপুরে বিশ্রামের জন্য পাহাড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে অস্থায়ী জুম ঘর। শত শত বছর ধরে এই চাষাবাদই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম প্রধান ভরসা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে খাগড়াছড়ির ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার জুম চাষ করছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ হেক্টর বেশি। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন ধান, এ বছর লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪৮ মেট্রিক টন। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দীঘিনালা উপজেলায়।

তবে চাষিরা অভিযোগ করেছেন, দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গেলং, বাদেয়ি ও রেংগুই জাতের ধানের ফলন এ বছর ভালো হলেও বাজারজাতকরণে চরম সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে বিরি–২৪, বিরি–২৬, বিরি–২৭ জাতের ধান আবাদ করেছে। এর মধ্যে বিরি–২৪ ও বিরি–২৭ এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সারের সঠিক ব্যবহার হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

যদিও অনেকে জুম চাষকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন, বাস্তবে এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার অন্যতম ভরসা। চাকমারা একে বলে ‘জুম’, ত্রিপুরারা ‘ছুগ’, আর মারমারা বলে ‘ইয়া’। গবেষণা বলছে, এখনও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বড় অংশ এই ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।

বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের মানুষ জুম চাষের ওপর নির্ভর করে সংসার চালিয়ে আসছে। এবারের বাম্পার ফলনে তাই তারা আনন্দিত। তবে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটলে জুম চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন