পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মধ্যে শনিবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা তৎপর হলেও দুই দেশের মধ্যে সহিংসতা বন্ধের কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে কাবুলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। তালেবান নেতারা দাবি করেছেন, কাবুল সংঘাত বন্ধে সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান “খুব ভালো করছে” এবং দেশটির ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে। তবে আফগানিস্তানের হামলাকে ওয়াশিংটন ‘আগ্রাসন’ হিসেবে দেখছে না।
গত শুক্রবার রাত থেকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের ১৩টি স্থানে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সেনা ও তালেবান বাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। তালেবানরা সীমান্ত-সংলগ্ন মিরানশাহ ও স্পিনওয়ামে পাকিস্তানি ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালায়। পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা হামলায় তাদের কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, সামরিক অভিযানে ৩৩১ তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ৫০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি বাহিনী ১০৪টি চেকপোস্ট ও ১৬৩টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। আফগান তালেবান বলছে, অন্তত ৫২ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৬৬ আহত হয়েছেন, হামলায় ৮টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, কাতার, চীন, রাশিয়া, ইরান ও যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ইসলামাবাদ ও কাবুলের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তান বলছে, তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তান এটি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পাকিস্তানের আফগান তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ সমর্থন করছে। মার্কিন কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার জানিয়েছেন, তালেবান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আফগান মাটি ব্যবহার করছে, যা আফগানিস্তান অস্বীকার করছে।








