ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘আহত বা নিহত’ হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমে। গত কয়েক দিন ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়া এবং কোনো ভিডিও বার্তা না দেওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি বিষয় এই জল্পনার পেছনে কাজ করছে।
প্রথমত, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও পোস্ট হয়েছে প্রায় তিন দিন আগে এবং শেষ ছবি প্রকাশ হয়েছে চার দিন আগে। এরপর তার নামে যে বক্তব্যগুলো এসেছে, সেগুলো টেক্সট আকারে।
দ্বিতীয়ত, এর আগে প্রায় প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভিডিও প্রকাশ পেত, কখনও কখনও তিনটিও। কিন্তু গত তিন দিনে কোনো ভিডিও না আসায় সন্দেহ আরও বেড়েছে।
তৃতীয়ত, কয়েকটি হিব্রু সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী ড্রোন হামলার আশঙ্কায়।
চতুর্থত, জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের ইসরায়েল সফর বাতিলের ঘটনাও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
পঞ্চমত, এলিসি প্যালেস এক প্রতিবেদনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর কথিত ফোনালাপের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেনি; কেবল একটি টেক্সট বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেতানিয়াহুর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ৬ মার্চ তাকে বীরশেবা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। এছাড়া ৫ মার্চ ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার ফোনালাপের বিষয়টি ফরাসি প্রেসিডেন্সি ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট নিশ্চিত করেছে।








