ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার অবসান ঘটাতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগকে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইসরাইলের সংসদ নেসেটে এক ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে এই প্রস্তাব দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন,
“আমার একটা আইডিয়া আছে। প্রেসিডেন্ট, আপনি কেন তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন না? এতদিন ধরে এই মামলা চলছে—এটা শেষ হওয়া উচিত।”
তার এই বক্তব্যে সংসদে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক সংসদ সদস্য হাততালি দিলেও, বিরোধী শিবিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নেতানিয়াহু বর্তমানে জালিয়াতি, ঘুষ এবং বিশ্বাসভঙ্গের তিনটি অভিযোগে বিচারাধীন। ২০১৯ সালে তাকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম অভিযোগ হলো—ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শ্যাম্পেন ও সিগারের মতো বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ, যার মূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার। তবে নেতানিয়াহু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে আসছেন।
ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক, কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী তিনি বিশেষ পরিস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট কি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছেন কিনা।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২০ সালে শুরু হয়, কিন্তু দুই বছরের যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনের কারণে বারবার স্থগিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো রায় ঘোষণা করা হয়নি। নেতানিয়াহু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন,
“এটা আমার বিরুদ্ধে বামপন্থিদের পরিচালিত একটি রাজনৈতিক হয়রানি।”
এর আগে, গত জুন মাসেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর বিচার বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য যে ভূমিকা রেখেছেন, তার জন্যই তিনি প্রশংসার যোগ্য, বিচার নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক ও ইসরাইলি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।








