দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল। তার নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষ করে স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে আনুতিন সীমান্ত সংঘাতকে কেন্দ্র করে আকস্মিক নির্বাচন ঘোষণা করেন। নির্বাচনের আগে তার দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তবে প্রাথমিক ফলাফলে ৫০০ আসনের সংসদে ভূমজাইথাই পার্টি পেয়েছে প্রায় ১৯২টি আসন। প্রগতিশীল পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৭টি এবং প্রভাবশালী পেউ থাই পার্টি ৭৪টি আসন। আনুতিন বলেন, “এই জয় শুধু ভূমজাইথাই পার্টির নয়, এটি সকল থাই নাগরিকের জয়। আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে জনগণের সেবা করতে চাই।”
পিপলস পার্টির নেতা নাত্থাফং রুয়াংপানিয়াওয়ুত স্বীকার করেছেন, তাদের দল জয়ের পথে নেই। তিনি জানিয়েছেন, তারা ভূমজাইথাই নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ হবে না এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জোটও গঠন করবে না।
ভূমজাইথাই পার্টি জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আনুতিনের জয় এসেছে জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন এবং গ্রামাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব কমানোর কৌশলের কারণে।
নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়েও মত চাওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভোটাররা প্রায় দুই-এক ব্যবধানে নতুন সংবিধানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ২০১৭ সালে সামরিক শাসনকালে প্রণীত সংবিধান অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল। নতুন সংবিধান পাস হলে সরকার ও সংসদ সংসদে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে, তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও দুটি গণভোট প্রয়োজন হবে।








