Editorial News 24

তীব্র হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার প্রায় অপরিবর্তিত

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বিমান হামলা চালানো হলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লঞ্চারের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার অর্থ হলো ছোট ও মোবাইল লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, ইরানের দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তবে গত সপ্তাহেও তারা জানিয়েছিল, প্রায় ৬০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহ পার হলেও লঞ্চারের মোট সংখ্যায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এদিকে পশ্চিমা দুটি পৃথক হিসাবেও ধ্বংস হওয়া লঞ্চারের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের মোট আক্রমণাত্মক সক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল লঞ্চারগুলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল ভিত্তি। তবে বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের দেশে এসব মোবাইল যান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে কিছু আকাশসীমা এখনও মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় অভিযান জটিল হয়ে উঠছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডে বলেন, ইরান হয়তো তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা হয়তো লঞ্চার সংরক্ষণ করতে হামলার গতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে শাহেদ ড্রোন ব্যবহারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে ২ হাজার ৪০০টির বেশি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি অন্তত ৭৮৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯টি স্ট্যান্ডার্ড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা মূলত এসব মজুত এবং লঞ্চার লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। এতে ইরানের জন্য অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এর ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ড্রোন হামলার সংখ্যা ৮০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বেক্কা ওয়াসারের মতে, সপ্তাহের শেষ তিন দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের গড় সংখ্যা ছিল দিনে প্রায় ২১টি।

তবে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংস করা হলেও ছোট ও লুকানো মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা এখনও কঠিন। বিশেষ করে ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহার করা এসব অস্ত্র রাডার এড়াতে সক্ষম হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন