বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতা — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং — অবশেষে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প আগামী ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে পৌঁছাবেন এবং সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা ও শুল্ক নীতিকে ঘিরে এই বৈঠককে ঘিরে তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক আগ্রহ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শি ও ট্রাম্পের বৈঠকটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনায় ছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন যে এটি আদৌ হবে কিনা। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই হতে যাচ্ছে তার এবং শি জিনপিংয়ের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছেন, চীন যদি বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রফতানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে, তাহলে আগামী নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে করে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “দুই নেতার এই বৈঠক হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক। আমরা আশা করছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।”
আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প-শি বৈঠক যদি ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে বৈঠকের দিন পর্যন্ত।








