Editorial News 24

জ্বালানি তেল কেনার সীমা তুলে দিচ্ছে সরকার

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

মধ্যপ্রাচ্যের অব্যাহত উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমেছে। এতে দেশে তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে মানুষ স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ হারে তেল কেনা শুরু করলে সরকার তেল কেনার ওপর সীমা আরোপ করে ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এরপর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায় এবং সরবরাহ বাড়ানোর দাবি ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সরকার তেল কেনার সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেন। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সরকার মজুত থাকাকালীন সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে ফিলিং স্টেশন ও পরিবহন মালিকরা সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছিল। ঈদযাত্রার সময় মানুষের ভোগান্তি এড়াতে তেল বিক্রির সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এটি ফোনে নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকট বৈশ্বিক। সব দেশই এর সমাধান খুঁজছে। সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে কাজ করছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে রেশনিং করা হয়েছিল। রোববার থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের কোনো সীমা থাকবে না।”

মন্ত্রী বর্তমানে জাপানে ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি নিয়ে দুই দিনের সম্মেলনে (১৪-১৫ মার্চ) অংশ নিচ্ছেন। এই সম্মেলনে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। শনিবার শেষ দিনে সম্মেলন থেকে যৌথ ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

আগে ৬ মার্চ থেকে অস্বাভাবিক বিক্রি রোধে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা আরোপ করা হয়েছিল। ১০ মার্চ রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেলের জন্য সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়। এছাড়া ৭ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশনে চাহিদার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করা হতো। ১১ মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের স্টেশনগুলোতে ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পেতে স্টেশন মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানায়। খুলনায় শনিবার ডিপো থেকে তেল উত্তোলনও বন্ধ রাখা হয়।

জ্বালানি তেল আমদানির সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, মার্চ মাসে মোট ১৮টি জাহাজ তেল আসার কথা। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৬টি জাহাজ এসেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত আরও ৬টি জাহাজ আসার সূচি রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন তেল থাকে। এসব জাহাজ মূলত ডিজেল নিয়ে আসছে। শেষ দুটি জাহাজে ডিজেলের সঙ্গে জেট ফুয়েলও থাকবে। এছাড়া ১৭ বা ১৮ মার্চে একটি জাহাজে ফার্নেস তেল আসার কথা। খোলাবাজার থেকে একটি জাহাজ অকটেন কেনার চেষ্টা চলছে।

ফিলিং স্টেশন থেকে মূলত পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়। এর মধ্যে পেট্রল শতভাগ দেশীয়, অকটেনের ৫০ শতাংশ দেশীয় ও বাকিটা আমদানি। তাই মূল উদ্বেগ ডিজেল নিয়ে। বছরে বিপিসি সরবরাহের ৬৫ শতাংশ জ্বালানি ডিজেল। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুদ আছে। জরুরি প্রয়োজনে আরও ৬০ হাজার টন ব্যবহারযোগ্য। দিনে ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টন।

অকটেন ও পেট্রলের মজুত আছে ১৬ হাজার টন করে। দেশীয় উৎস থেকে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টন করে পেট্রল ও অকটেন যোগ হচ্ছে। দিনে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা ১,১০০-১,২০০ টন। সরবরাহ সীমা তুলে দিলে মার্চে তেলের কোনো সংকট হবে না। তবে কেউ অতিরিক্ত মজুত করলে চাপ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি (ডিজেল ও অকটেন) কেনার চুক্তি আছে। অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হলে সরবরাহকারীরা তেল পরিশোধনে সংকটে পড়তে পারে। তখন মে মাসে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহে ব্যর্থ হতে পারে। এজন্য সরকার জিটুজি, উন্মুক্ত দরপত্র বা সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল কেনার চিন্তা করছে। ভারতকেও অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আনার জন্য নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর ১,২০,০০০ টন ডিজেল আসার কথা। অতিরিক্ত ৬০,০০০ টন দেওয়া হলেও নিশ্চিত নয়। মার্চে ২০,০০০ টন ও এপ্রিল মাসে ২৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া সমুদ্রপথে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) ২০২০ থেকে তেল সরবরাহ করছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১,০৫,০০০ টন তেল আসার কথা। এর মধ্যে ডিজেল ২০,০০০ টন, ফার্নেস ৫০,০০০ টন, অকটেন ২৫,০০০ টন ও জেট ফুয়েল ১০,০০০ টন। সমুদ্রপথে ৩০,০০০ টন করে চারটি জাহাজে ১,২০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন