কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গ্রেফতার হওয়া দুই গেটম্যান হলেন মো. হেলাল (৪১) ও মো. কাওছার হোসেন (২০)।
বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাঈম উল হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২১ মার্চ দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা সদরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যান কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তারা রেলগেট বন্ধও করেননি। দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি গেটম্যান মো. হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গেটম্যান হেলাল ও কাওছার হোসেনকে তারা গ্রেফতার করেছে এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাতের নেতৃত্বে রেলওয়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
উদ্ধার অভিযান শেষে নিহত ১২ জনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত যাত্রী সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে ২৩ মার্চ লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ১।
রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত বলেন, অভিযানে র্যাব রেলওয়ে পুলিশকে সহায়তা করেছে। গ্রেফতার হওয়া গেটম্যান হেলাল জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় কাওছার ও নাজমুল নামের দুই ব্যক্তি দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।








