গাজার যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মিশরে চলছে ইসরায়েল-হামাসের পরোক্ষ আলোচনা—এবার সেখানে যুক্ত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, এবং সঙ্গে থাকছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। সাম্প্রতিক বিবিসি রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, শারম আল–শেখে এই আলোচনার তৃতীয় দিন বুধবার (৮ অক্টোবর) কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে তাদের যোগদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যৌথ শান্তিচুক্তি সম্পাদনে চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার কিছু ধারা ইসরায়েল গ্রহণ করেছে, আর হামাসও কিছু প্রস্তাব মেনে নিয়েছে—তবুও Several বড় ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় হামাস গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দাবি করেছে এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির নির্দিষ্ট সময়সূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানায়। হামাস জোর দিয়েছে—শেষ বন্দির মুক্তি হওয়ার সময়কেই প্রতিক্রিয়াস্বরূপ দখলদার বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহারের সময় ধরে নিতে হবে। তারা আরও বলেছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি অপরিহার্য।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েল যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে কাজ চালিয়ে যাবে—সব ইসরায়েলি জিম্মিকে ফেরত আনা, হামাসের শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং গাজা যেন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায়, এ লক্ষ্য বজায় থাকবে।
সংযুক্ত সূত্র বলছে, আজ আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগ দেবেন; তার সঙ্গে তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধানেরও উপস্থিতি রেজিস্টার্ড। আলোচনার মূল পাঁচটি ইস্যু হবে—
১) স্থায়ী যুদ্ধবিরতি;
২) হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি;
৩) গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার;
৪) মানবিক সহায়তা সরবরাহের স্থায়ী ও নির্বিঘ্ন ব্যবস্থা;
৫) যুদ্ধের পর অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো।
আলোচনার ফলাফল লক্ষ্য রেখে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকেই দ্রুত সমাধির জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে অনিশ্চয়তা কম নয়—সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে বন্দি মুক্তি ও প্রত্যাহারের সূচি, যা কোনও তাত্ক্ষণিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে পরের ধাপগুলো এগোবে। আজকের দিনটিকে তাই কূটনৈতিকভাবে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








