বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত থামানোর দাবিতে নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন এক সময়, যখন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ঘোষণা হবে এ বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম, তার ঠিক আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও হামাস—যার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্প। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই কূটনৈতিক অগ্রগতি কি ট্রাম্পের নোবেল জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে?
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ট্রাম্পকে “শান্তির প্রেসিডেন্ট” ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। তবে নিজে সে বিষয়ে খুব আত্মবিশ্বাসী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,
“আমার কোনো ধারণা নেই… মার্কো (পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও) বলবেন যে আমরা সাতটি যুদ্ধ মীমাংসা করেছি, আর অষ্টম যুদ্ধের সমাধানের কাছাকাছি। আমার মনে হয়, রাশিয়ার পরিস্থিতিও আমরা মীমাংসা করে ফেলব।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইতিহাসে তার মতো এতগুলো যুদ্ধের সমাপ্তি আর কেউ ঘটাতে পারেনি। তবুও ট্রাম্পের বিশ্বাস, “নোবেল কমিটি হয়তো কোনো না কোনো কারণ খুঁজে পাবে তাঁকে পুরস্কার না দেওয়ার জন্য।”
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের প্রশংসায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তার একটি ছবি পোস্ট করেছে ‘The Peace President’ ক্যাপশন দিয়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।
সুইডিশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার ওয়ালেনস্টিন বলেন,
“না, এই বছর ট্রাম্প নোবেল কমিটির তালিকায় থাকবেন না। তবে হয়তো পরের বছর, যদি গাজা ইস্যুতে তার পদক্ষেপ কার্যকর প্রমাণিত হয়।”
অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নিনা গ্রেগার বলেন,
“গাজায় ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ থাকলেও তার অনেক নীতি নোবেল পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি—বিশেষত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জাতির ভ্রাতৃত্ব এবং নিরস্ত্রীকরণ উৎসাহিত করার দিকগুলোতে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের গাজা চুক্তিতে ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হলেও, তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির কারণে নোবেল কমিটির চোখে তিনি এখনও বিতর্কিত চরিত্র। ফলে গাজা যুদ্ধবিরতি হয়তো তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পথে এখনও অনেক দূর যেতে হবে ট্রাম্পকে।








