বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার।
দিনাজপুরের সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক যোগ রয়েছে। নানিবাড়ির মানুষদের কাছেই তিনি ভোট চাইছেন এবং তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখানকার মাটি উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারী ভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অনন্য, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের সেরা ফলগুলোর একটি। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এসব পণ্য রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভাণ্ডার নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার সক্ষমতা রাখে। বিএনপির রাজনীতি কেবল কাঁচা কৃষিপণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে এবং বেকার যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি ও কৃষক অবহেলার শিকার হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়নি। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই বাস্তব সত্য ভুলে গিয়ে কৃষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রপ্তানি সহজ হবে।
সবশেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, কৃষিবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন।
উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।








