নতুন সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের শপথের মাধ্যমে দেশের নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হতে পারে এবং আদৌ তা প্রয়োজন হবে কি না।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর আমলে। তাঁর মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আইনগত সুযোগ নেই।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার একটি অংশ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করলেও এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই শপথ নেয় নতুন সরকার।
কোন পরিস্থিতিতে হতে পারে নির্বাচন?
সংবিধান অনুযায়ী, তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—
১. মেয়াদ পূর্ণ হওয়া
২. পদত্যাগ
৩. অভিশংসন
এ ছাড়া শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক অক্ষমতা বা গুরুতর অসদাচরণের কারণেও পদ শূন্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রপতির অবস্থান কী?
গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা Reuters–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার কথা জানান।
কী হতে পারে সামনে?
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন; শিগগিরই নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেবেন। রাষ্ট্রপতি যদি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না।
রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি জটিল হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।
সূত্র: বিবিসি বাংলা








