ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। বাড়তি ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও। অভিভাবকদের অসতর্কতার কারণে সৈকতের বালুচরে খেলতে থাকা অনেক শিশু ভিড়ের মধ্যে দলছুট হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া এসব শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
গত তিন দিনে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে হারিয়ে যাওয়া ২৮ শিশুকে উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) কলাতলী থেকে সুগন্ধা-লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ শিশু দলছুট হয়। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১২ শিশু হারিয়ে যায়। রবিবার (২২ মার্চ) তিনজন এবং শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন সন্ধ্যায় এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। গত চার দিনে হারানো সব শিশুকেই নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে সুগন্ধা পয়েন্টের ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের সামনে পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়। একই সময়ে নেত্রকোনা থেকে আসা পর্যটক মাহাবুব তার ছয় বছর বয়সী ছেলে মাহাদী এবং নারায়ণগঞ্জের আক্তার হোসেন তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে আতিককে হারিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা চান। ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই সুব্রত বাড়ৈ ও সদস্য মুহাম্মদ ফরিদ সৈকতে মাইকিং ও খোঁজাখুঁজির মাধ্যমে চার শিশুর অভিভাবকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে সন্তানদের ফিরিয়ে দেন।
এ ছাড়া বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা এক দম্পতি তাদের ১১ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে হারিয়ে ফেলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সৈকত ও পাশের ঝাউবাগান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়া বেশির ভাগ শিশুর বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
এসআই সুব্রত বাড়ৈ বলেন, প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অভিভাবকদের অসতর্কতা দায়ী। অনেকেই সন্তানদের বালুচরে রেখে নিজেরা সমুদ্রে গোসলে ব্যস্ত থাকেন। সেই সুযোগে শিশুরা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়।








