ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিমান্ড শেষে আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। এই সময় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদন অনুমোদনের পর রুবেল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২২ জানুয়ারি প্রথম দফায় তার ৬ দিনের রিমান্ড এবং ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে ডিবি পুলিশের অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে সিআইডিকে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দেয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, তার পরিবার সদস্য এবং হত্যায় সহায়তা করা অন্যান্য ব্যক্তির নাম রয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।








