Editorial News 24

এপস্টেইন ফাইলস: যৌন অপরাধের আড়ালে মোসাদ ও সিআইএর অদৃশ্য সংযোগ

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

জেফরি এপস্টেইনের নাম উচ্চারণ করলেই সামনে আসে এক ভয়াবহ যৌন অপরাধীর চিত্র। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত নানা নথি ও তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড কেবল অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যৌন নিপীড়ন, বিপুল অর্থ, প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গোপন সুতোর সঙ্গে এপস্টেইনের নাম ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথিপত্রে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতির নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে আগাম তথ্য জানতেন এপস্টেইন। কাতার আক্রমণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা, ইউরো মুদ্রা রক্ষায় নেওয়া উদ্ধার প্যাকেজ কিংবা ২০১৬ সালে তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের আগাম বার্তা—এসব বিষয়ে তাঁর জানাশোনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না।

যদিও প্রকাশিত নথিতে এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই যে এপস্টেইন নিয়মিত সিআইএ, এমআই৬ কিংবা মোসাদের কার্যালয়ে যেতেন, তবে বাস্তবতা হলো—বিশ্বনেতা, ধনকুবের ও সাবেক কূটনীতিকরাই তাঁর কাছে যেতেন। ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার ও যৌন নিপীড়নের আড়ালে গড়ে ওঠে এক প্রভাবশালী ও অদৃশ্য নেটওয়ার্ক।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। এমনকি একপর্যায়ে এপস্টেইন নিজেই বারাককে অনুরোধ করেন, যেন প্রকাশ্যে বলা হয় তিনি মোসাদের হয়ে কাজ করেন না। তবে এপস্টেইনের প্রভাবশালী যোগাযোগের সূত্র আরও পুরোনো।

ডোনাল্ড বারের হাত ধরেই এপস্টেইনের উত্থানের সূচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ওএসএসের সদস্য ডোনাল্ড বার ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও এপস্টেইনকে নিউইয়র্কের অভিজাত ডাল্টন স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে এপস্টেইন যোগ দেন বেয়ার স্টার্নস বিনিয়োগ ব্যাংকে।

১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্য সফরের সময় ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবসায়ী ডগলাস লিসের সঙ্গে পরিচয়ের পরই এপস্টেইনের জীবনে বড় মোড় আসে। এই লিসই তাঁকে ইসরায়েলি ধনকুবের রবার্ট ম্যাক্সওয়েল ও সৌদি অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সময় ইরান-কনট্রা কেলেঙ্কারিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা শক্তি জড়িত ছিল।

ম্যাক্সওয়েল পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এপস্টেইনের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে। রবার্ট ম্যাক্সওয়েল ছিলেন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মালিক এবং তাঁর সঙ্গে মোসাদ, এমআই৬ ও কেজিবির যোগাযোগের কথা বহু সূত্রে উঠে এসেছে। ১৯৯১ সালে ম্যাক্সওয়েলের রহস্যজনক মৃত্যুর পর এপস্টেইন ও গিসলেনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

এপস্টেইনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ ছিলেন মার্কিন ধনকুবের লেস ওয়েক্সনার। তাঁর বিপুল সম্পদের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল এপস্টেইনের হাতে। এমনকি ইরান-কনট্রা কেলেঙ্কারিতে ব্যবহৃত কিছু বিমান পরে ওয়েক্সনারের ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিশু পাচার ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেমে থাকেনি। ইসরায়েল-মঙ্গোলিয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বৈঠক আয়োজন এবং রাশিয়ার সঙ্গে গোপন যোগাযোগের চেষ্টার তথ্যও সামনে এসেছে।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে রহস্যজনকভাবে এপস্টেইনের মৃত্যু হলেও, তাঁর রেখে যাওয়া নথিপত্র ও যোগাযোগ আজও প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে—তিনি কি কেবল একজন অপরাধী ছিলেন, নাকি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও ক্ষমতার রাজনীতির অদৃশ্য খেলোয়াড়?

সূত্র: প্রথম আলো

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন