মার্কিন মুসলিম পণ্ডিত ও বিশিষ্ট বক্তা ড. ওমর সুলেইমান উম্মাহর কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মুসলমানদের দায়িত্বশীল ও নৈতিক জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলাম শুধু নামাজ, রোজা বা বাহ্যিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি উচ্চতর নৈতিকতা, জ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও সমাজসেবার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নির্দেশ দেয়।
ড. সুলেইমানের খুতবায় গুরুত্ব পেয়েছে ঈমানের উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ, যেখানে সাধারণ বা মাঝারি মানে সন্তুষ্ট না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঈমান কেবল বিশ্বাস নয়; এটি আখিরাতের প্রস্তুতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জীবনদর্শন। একজন মুসলমানকে আত্মনিয়ন্ত্রিত, জ্ঞানপুষ্ট ও নৈতিকভাবে দৃঢ় হতে হবে, যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপে ঈমানের প্রতিফলন ঘটে।
ড. সুলেইমান আরও বলেন, খাঁটি ইবাদত ও সামাজিক অবদান একসঙ্গে বজায় রাখতে হবে। ইসলাম শেখায়, ন্যায্যতা, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধই ঈমানের বাস্তব প্রকাশ। প্রকৃত মুসলমান তার সমাজে আল্লাহর গুণাবলীর ছায়া হয়ে কাজ করে।
তিনি উম্মাহর প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণের সময় উম্মাহর ঐক্য, লাভ ও উন্নয়নকে বিবেচনায় রাখা জরুরি। নেতৃত্ব, শিক্ষা, দান-খয়রাত ও কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রত্যেক মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব।
উচ্চ লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধাপ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন:
- পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা: দৈনন্দিন ইবাদত, শিক্ষা, পেশা ও সমাজসেবায় নিয়মিত প্রচেষ্টা বজায় রাখা।
- আত্মসমীক্ষা ও প্রতিফলন: নিজের কাজ ও উদ্দেশ্য কতটা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও উম্মাহর কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা পর্যালোচনা করা।
- শিক্ষা ও নেতৃত্ব: জ্ঞান আহরণ, নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান ও তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে উদ্বুদ্ধ করা।
- নৈতিকতা ও সহানুভূতি: সমবেদনা, ন্যায্যতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বজায় রাখা।
ড. ওমর সুলেইমানের খুতবার সারমর্ম হলো, মাঝারি মান অতিক্রম করে উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ, খাঁটি নৈতিকতা বজায় রাখা এবং উম্মাহর কল্যাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই তিনটি স্তম্ভেই নিহিত একজন মুসলিমের প্রকৃত সাফল্য ও ইসলামী জীবনের সারমর্ম।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, যারা ঈমান এনেছে ও জ্ঞান অর্জন করেছে।” (সুরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ১১)
ড. ওমর সুলেইমান (জন্ম: ১৯৮৬) মার্কিন মুসলিম পণ্ডিত, নাগরিক অধিকার নেতা, লেখক ও বক্তা, যিনি ইয়াক্বীন ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অ্যাডজেক্ট প্রফেসর। বর্তমানে তিনি ভ্যালি রঞ্চ ইসলামিক সেন্টারের আবাসিক স্কলার ও শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য বহু-বিশ্বাসী জোটের সহ-চেয়ার এমেরিটাস।








