Editorial News 24

ইরানে হামলার ছক চূড়ান্ত? ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য লক্ষ্য কারা

🔔 নতুন তথ্য ও খবর পেতে এখনই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হোন।

ইরানে হামলার ছক চূড়ান্ত? ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য লক্ষ্য কারা ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের কৌশল ইরানসহ একাধিক দেশে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ব্যাপক সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে দ্রুত আঘাত হেনে লক্ষ্য পূরণের নীতিই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল কৌশল। এই নীতির সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার ঘটনা উল্লেখ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। দেশটিতে মার্কিন অভিযানে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ না থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের নজর ইরানের দিকে ঘুরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যদিও সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প কিছুটা সংযত সুরে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বাস্তবে সামরিক প্রস্তুতিতে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে না। কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে সম্ভাব্য আকাশ অভিযান নিয়ে পেন্টাগনে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘স্বল্প ব্যয়ে সরকার পরিবর্তন’ মডেল। যেখানে সরাসরি স্থলযুদ্ধে না গিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রক্সি যুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়। ভেনেজুয়েলায় এই কৌশল কার্যকর হওয়ার পেছনে দেশটির দুর্বল সামরিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত দেশটি বর্তমানে ভেতর থেকেই চাপে রয়েছে। এই সুযোগে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহায়তা ও আকাশ শক্তির মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করাই ওয়াশিংটনের কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে একাধিক অঞ্চলে জটিল সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। এর মধ্যেই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত এবং চীন তাইওয়ান ইস্যুতে মনোযোগী থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বিস্তার তুলনামূলক সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন প্রশ্ন—ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই সামরিক কৌশল ইরানের ওপর প্রয়োগ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
Picture of Desk Reporter

Desk Reporter

ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের কৌশল ইরানসহ একাধিক দেশে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ব্যাপক সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে দ্রুত আঘাত হেনে লক্ষ্য পূরণের নীতিই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল কৌশল।

এই নীতির সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার ঘটনা উল্লেখ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। দেশটিতে মার্কিন অভিযানে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ না থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের নজর ইরানের দিকে ঘুরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

যদিও সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প কিছুটা সংযত সুরে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বাস্তবে সামরিক প্রস্তুতিতে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে না। কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে সম্ভাব্য আকাশ অভিযান নিয়ে পেন্টাগনে আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘স্বল্প ব্যয়ে সরকার পরিবর্তন’ মডেল। যেখানে সরাসরি স্থলযুদ্ধে না গিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রক্সি যুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়। ভেনেজুয়েলায় এই কৌশল কার্যকর হওয়ার পেছনে দেশটির দুর্বল সামরিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত দেশটি বর্তমানে ভেতর থেকেই চাপে রয়েছে। এই সুযোগে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহায়তা ও আকাশ শক্তির মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করাই ওয়াশিংটনের কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে একাধিক অঞ্চলে জটিল সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

এর মধ্যেই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত এবং চীন তাইওয়ান ইস্যুতে মনোযোগী থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বিস্তার তুলনামূলক সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন প্রশ্ন—ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই সামরিক কৌশল ইরানের ওপর প্রয়োগ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জোরালোভাবে সুপারিশকৃত -

সাম্প্রতিক পোস্ট -

বিজ্ঞাপন

বিশেষ সংবাদ নিয়ে আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি নিয়ে গভীরতর ধারণার জন্য আরও পড়ুন-

🌟 আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন