পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাকিস্তান সরকার এবং পিটিআই—উভয়েই এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেছে। জানানো হয়েছে যে ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারের একান্ত সেলে রয়েছেন এবং সুস্থ আছেন।
পাকিস্তানি দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এদিন কারাগারের বাইরে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার অষ্টম চেষ্টা। ইমরানের আইনজীবী, চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদেরও সাক্ষাতের সুযোগ মিলছে না।
এই পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং তাকে উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তরের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের একটি পত্রিকা ও বিবিসিও এসব গুজব প্রচার করে। সকাল থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ড করতে থাকে হ্যাশট্যাগ #ইমরান_খান_কোথায়।
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইমরানের ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে তার বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ পাঠিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এআরওয়াই নিউজকে জানান, “ইমরান খান ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি দল নিয়মিত কাজ করছে। চিকিৎসা, খাবার, ব্যায়াম—সবকিছুর দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।”
পিটিআই নেতা আলি জাফরও বলেছেন, “এই গুজবের কোনো সত্যতা নেই। সরকার যদি সাক্ষাতের সুযোগ দেয়, তাহলে সবাই নিজেরাই বুঝতে পারবেন।” পিটিআই কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব ওয়াকাস আকরাম জানান, “ভারত ও আফগানিস্তান থেকে ছড়ানো ভুয়া খবর আমরা আগেই অস্বীকার করেছি। সরকার ইমরানের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।”
পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে—ইমরান খানের স্বাস্থ্যের কোনো গুরুতর সমস্যা নেই, তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, যার ফলে দেশ-বিদেশে বহু মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ডন, পিটিআই








