পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারা প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান খানকে কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়নি এবং তিনি জেলের ভেতরেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান খানকে স্থানান্তর করার খবর “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা”। তার স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব জল্পনা চলছে তা ‘অসত্য ও অবিবেচনাপ্রসূত’। কারা প্রশাসনের দাবি, তিনি নিয়মিত চিকিৎসা সুবিধাও পাচ্ছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ বলেন, ইমরান খান জেলের ভেতরে “যথেষ্ট আরাম-আয়েশ” পাচ্ছেন। তার সেলে টেলিভিশন, ব্যায়াম করার মেশিন এবং ডাবল বেড রয়েছে। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, তাঁর জন্য যে খাবারের তালিকা দেওয়া হয়, তা “পাঁচতারকা হোটেলেও পাওয়া যায় না।”
নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে আসিফ বলেন, “আমরা ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম, সাধারণ খাবার খেতাম, কম্বল ছিল দুইটা—গরম পানিও ছিল না। অথচ ইমরান খানের কাছে ‘ভেলভেট ম্যাট্রেস’ রাখা হয়েছে।”
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, টানা তিন সপ্তাহ ধরে তাঁর বোনেদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে কারাগারের সামনে অবস্থান করলে পুলিশ হঠাৎ লাঠিপেটা চালায়।
পিটিআই অভিযোগ করেছে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আইনজীবী, বই ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী বলেন, “এখানে কোনো আইন নেই—চলছে জঙ্গলের নিয়ম।”
খাইবার–পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদির সাতবারের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে। পিটিআই দাবি করেছে, জেল কর্তৃপক্ষকে একজন সামরিক কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ করছেন।








