আগামীকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এ কর্মসূচির আওতায় বন্দরের জেটির পাশাপাশি বহির্নোঙরেও সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন এ ঘোষণা দেন। সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর কোনোভাবেই বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা মেনে নেবেন না। বন্দরের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংগ্রাম পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।
এর আগে একই দাবিতে কয়েক দিন ধরে বন্দরে টানা কর্মবিরতি ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে জেটিতে পণ্য ওঠানামা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে না পারায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাসে দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।








