গ্রীষ্মের প্রিয় ফল তরমুজ এখন আর শুধু মৌসুমি নয়। বর্ষা পেরিয়ে শরতেও রাজধানীর বাজার ভরপুর সুমিষ্ট তরমুজে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় পাইকারি এবং ৪০ থেকে ৬০ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদাও কম নয়। খুলনা, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মাঠ থেকে নিয়মিত আসছে এই রসালো ফল।
কৃষকরা বলছেন, সরকার ও কৃষি অফিসের সহযোগিতায় অসময়ে তরমুজ চাষ এখন অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। একসময় যেখানে শুধুমাত্র মৌসুমে তরমুজ পাওয়া যেত, এখন সারা বছরই পাওয়া যাচ্ছে। মালচিং প্রযুক্তি, হাইব্রিড জাতের বীজ ও সঠিক পরিচর্যায় কৃষকেরা অল্প সময়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
খুলনার বটিয়াঘাটায় মাচায় চাষ করা তরমুজ ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা অল্প জমিতেই ভালো ফলন পেয়েছেন। একজন কৃষক জানান, বিঘাপ্রতি ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার আবুবকর সিদ্দিক ৪০ শতাংশ জমিতে সুইটব্ল্যাক-২ জাতের তরমুজ চাষ করে প্রায় পাঁচগুণ লাভের আশা করছেন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাইব্রিড জাতের মার্সেলো কালো ও বাদামি তরমুজ মাত্র ৬০-৬৫ দিনেই তোলা সম্ভব হচ্ছে। অতিবৃষ্টি সত্ত্বেও খাঁচায় চাষের কারণে ফলনে প্রভাব পড়ছে না। নেত্রকোনার তরুণ সারোয়ার আহমেদ সাইম প্রথমবারেই অসময়ে তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন। তিনি জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়েছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অফসিজন তরমুজ শুধু কৃষকের আয়ের নতুন দ্বার খুলছে না, বরং শিক্ষিত তরুণদেরও কৃষিতে সম্পৃক্ত করছে। প্রযুক্তি, সঠিক বীজ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৫, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান। এটি শরীর ঠাণ্ডা রাখা, হজমে সহায়তা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অফসিজন তরমুজ চাষ শুধু কৃষকের আর্থিক অবস্থাই পাল্টাচ্ছে না, বরং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।








