সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গদখালী গ্রামে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রেখে ঢেঁকিকে আধুনিকায়ন করে পুষ্টিকর চাল তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন নাজমা বেগম। বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে দুইটি ঢেঁকি একসঙ্গে চালিয়ে তিনি চাল ভানার পাশাপাশি চাল কোটার কাজ করছেন। আগে গ্রামে পা দিয়ে ঢেঁকি ভানার মাধ্যমে চাল উৎপাদন করা হতো, এখন আধুনিক অটো-ঢেঁকিতে ব্যবসা অনেক সহজ ও লাভজনক।
নাজমা বেগম শুধু সাধারণ চাল নয়, বর্ষার মৌসুমে ডায়াবেটিকস ও দুর্বল রোগীদের জন্য লাল চাল তৈরির জন্য বিশেষ ধান সংগ্রহ করে তৈরি করেন। তার এই ঢেঁকিতে তৈরি চালের চাহিদা অনলাইন ও অফলাইনে দিন দিন বাড়ছে। নাজমা বর্তমানে মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন, যা তার সংসার চালাতে যথেষ্ট সাহায্য করছে। ব্যবসার সাফল্য দেখে তিনি আরও দুটি ঢেঁকি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন।
প্রতিবেশী রমেছা খাতুন, খাদিজা বেগম ও আব্দুল্লাহ করিম জানিয়েছেন, ঢেঁকি ছাঁটা চালের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। মিলে ধান মাড়াই করলে পুষ্টি কমে যায়, তবে ঢেঁকিতে মাড়াই করা চালে পুষ্টি বজায় থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য ঢেঁকি ছাঁটা চাল অত্যন্ত উপকারী।
নাজমা বেগম এখন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার উদ্যোগে ঢেঁকিকে আধুনিকায়ন করে ঐতিহ্য ও ব্যবসা দুইই ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।








